স্টাফ রিপোর্টার, পেকুয়া:
কক্সবাজারের পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা এলাকায় ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ সাময়িকভাবে রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে প্রতিবছরের পুনরাবৃত্ত দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত একটি স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
রোববার সকাল থেকে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম বাহাদুর শাহের দিকনির্দেশনায় ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহাসান উল্লাহর তত্ত্বাবধানে স্থানীয়দের অংশগ্রহণে বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা সাত দিনের ভারী বর্ষণের মধ্যে চার দিন আগে পূর্ব মেহেরনামা এলাকার বেড়িবাঁধের একটি অংশ পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে যায়। এছাড়া বাঁধের আরও একটি অংশ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে গত চার দিন ধরে অব্যাহতভাবে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। এতে ইউনিয়নের অধিকাংশ বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে এবং কোটি কোটি টাকার মাছের ঘের ও মৎস্য প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
দুর্ভোগে পড়া মানুষের কষ্ট লাঘবে দ্রুত উদ্যোগ নেন চেয়ারম্যান এম বাহাদুর শাহ। তার নির্দেশনায় ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহাসান উল্লাহ এবং স্থানীয় যুবকদের সমন্বয়ে অস্থায়ীভাবে পানি প্রবেশ বন্ধের কাজ শুরু হয়।
চেয়ারম্যান এম বাহাদুর শাহ বলেন, “যত দ্রুত সম্ভব অস্থায়ীভাবে পানি প্রবেশ বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একই সঙ্গে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে আমরা আশা করছি।”
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহাসান উল্লাহ বলেন, “এই একটি বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে পুরো এলাকা কার্যত পানির নিচে চলে গেছে। মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।”
ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম বলেন, “চেয়ারম্যানের দিকনির্দেশনায় আমরা স্থানীয়দের নিয়ে অস্থায়ীভাবে পানি প্রবেশ বন্ধে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি রোধে পূর্ব মেহেরনামা এলাকায় দ্রুত একটি স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
